বাগেরহাট সংবাদদাতা: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার রাধাবল্লভ এলাকায় দড়াটানা নদীর চরের শুটকি চাতালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ হাঙর শুটকি উদ্ধার করে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, শুটকি চাতালে হাঙরের সন্ধান জানতে পেরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের সদর রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে শুটকি চাতালে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আনুমানিক ৫ মণ হাঙরের শুটকি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযান চলাকালীন কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
রোববার সকালে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ মোতাবেক মামলা দায়েরের পর জব্দকৃত শুটকি আদালতে প্রেরণ করা হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেক জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়িরা হাঙর ধরা নিষিদ্ধ এটা সম্পর্কে জানেন না। তাদেরকে সচেতন করার জন্য মাইকিংসহ বিভিন্ন পদক্ষেপগ্রহণ করা হবে।
মাহমুদুল হাসান বলেন, ডলফিন প্রকল্পের আওতায় ২ ডিসেম্বর থেকে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে হাঙর, ডলফিনসহ আহরণ নিষিদ্ধ প্রাণী না ধরার জন্য দুবলার চর শুটকিপল্লীতে সচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারণা করা হবে। এছাড়া যদি কোথাও হাঙরের শুটকি করে থাকে তাহলে সেখানে অভিযান চালানো হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলেরা বলেন, বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন মাছের সঙ্গে নির্বিচারে হাঙর ধরছেন জেলেরা। সাগর থেকে ধরা এসব হাঙর বিভিন্ন মৎস্য আড়ৎ ও সুন্দরবনের শুটকি পল্লীতে বিক্রি হয় চড়া দামে। এগুলো শুটকি হয়ে চলে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, নির্বিচারে হাঙর ধরলে এক সময় বঙ্গপসাগর থেকে হাঙর বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এসব হাঙরের শুটকি দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয় চড়া দামে। চীনসহ বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্রে হাঙরের পাখনার রয়েছে অত্যাধিক চাহিদা। অভিজাত হোটেলগুলোতে বেশিদামে হাঙরের পাখনা ক্রয় করা হয়।
মৎস্যজীবী সমিতির এক নেতা বলেন, বাগেরহাট কেভি বাজারে সামান্য কিছু কামোট (হাঙর) বিক্রি হয়। মূলত হাঙ্গোরকে বাঁচাতে হলে সুন্দরবনের দুবলার চরে হাঙর শুকানো ও আহরণ বন্ধ করতে হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আব্দুর রউফ বলেন, এই এলাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে হাঙর কম পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে অনেক বেশি হাঙ্গর পাওয়া যায়। ওইসব অঞ্চলে অনেক জেলে আছেন যারা শুধু হাঙর ধরতেই সাগরে যায়। বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশি সীমানায় কি পরিমান হাঙর রয়েছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। এই প্রজাতিকে রক্ষা করতে হলে সাগরের হাঙরের ওপর অধিক গবেষণা প্রয়োজন